
Zaitoon Business Forum (ZBF)
১. ভুমিকা:
যাইতুন বিজনেস ফোরাম(ZBF)ব্যবসামূলক অরাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশের যেকোনো অঞ্চলে একক বা যৌথভাবে ব্যবসায়ের যেকোনো উদ্যোগ, প্রতিষ্ঠান পরিচালানা, গ্রæপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ ও কোম্পানি গঠন করে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য যাইতুন বিজনেস ফোরাম (ZBF)প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
২. নাম:
বাংলা নাম: যাইতুন বিজনেস ফোরাম
ইংরেজি নাম: Zaitoon Business Forum
৩. লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য:
যাইতুন বিজনেস ফোরাম (তঅইঋ) প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে, যাইতুন একাডেমির সকল ছাত্র ছাত্রীকে শিক্ষাজীবনে থাকতেই স্বাবলম্বী হিসেবে গড়ে তোলা। যাইতুনের শিক্ষার্থীরা যাতে চাকুরির জন্য অন্যের কৃপা প্রত্যাশী না হয় এজন্য তাদেরকে ৬ষ্ট শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত বিভিন্ন স্কিলের ওপর প্রফেশনাল ট্রেনিং দিয়ে প্রস্তুত করা। এরপর নিজেদের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত ফার্মগুলোতে শ্রম দিয়ে আত্মনির্ভরশীল হিসেবে নিজেদরেকে প্রতিষ্ঠিত করা। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য দেশের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সেবা ইত্যাদি খাতে ব্যবসায় উদ্যোগ গ্রহণ করা।
৪. যাইতুন বিজনেস ফোরাম (তঅইঋ) এর সংজ্ঞা:
যাইতুন বিজনেস ফোরাম (তঅইঋ) বলতে একটি প্রাইভেট গ্রæপ অব কোম্পানির প্ল্যাটফর্ম বুঝায় যেখানে যাইতুন একাডেমির শিক্ষার্থী, শিক্ষক-শিক্ষিকা, কর্মকর্তা-কর্মচারী, অভিভাবক ও শুভানুধ্যায়ীগণ নির্দিষ্ট শর্তাবলীর আলোকে ব্যবসায়িক কার্যক্রমের অংশীদার হতে পারবে।
৫. যাইতুন বিজনেস ফোরাম (তঅইঋ) এর কর্ম-কান্ডের পরিধি:
যাইতুন বিজনেস ফোরাম (তঅইঋ) এর কর্ম-কান্ডের পরিধি সারা বাংলাদেশ হবে। বাংলাদেশ সরকারের প্রাইভেট কোম্পানি কিংবা ব্যবসা পরিচালনা করার যাবতীয় বিধিবদ্ধ আইন মেনে দেশের যে কোনো অঞ্চলে যে কোনো ধরনের ব্যবসার উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারবে যাইতুন বিজনেস ফোরাম (তইঋ)। তইঋ র প্রধান কাজই হচ্ছে ব্যবসার মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখা, বেকারত্ব দূরীকরণে দেশের যুবকদের জন্য নিত্য নতুন বিজনেস আইডিয়া নিয়ে কাজ করা। বিশেষকরে যাইতুন একাডেমির সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের ট্রেনিং প্রদান করে তাদেরকে ব্যবসায়িক কর্মকান্ডে যুক্ত করে দেশ ও দশের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতার জন্য নিরলসভাবে কাজ করা।
৬. যাইতুন বিজনেস ফোরাম (তঅইঋ) এর ফান্ড:
যাইতুন বিজনেস ফোরাম (তঅইঋ) এর যেহেতু একটি ব্যবসায়িক গ্রæপ অব কোম্পানি হিসেবে কাজ করবে সেহেতু এই কোম্পানির সকল ধরনের ফান্ডের প্রধান উৎস হবে সদস্যদের থেকে আদায়কৃত শেয়ারের মূল্য বা সম্পদ।
৭. পরিচালনা পর্ষদ:
যাইতুন বিজনেস ফোরাম (তঅইঋ) পরিচালিত হবে দুই কক্ষ বিশিষ্ট পরিচালনা পরিষদ দ্বারা:
ক. উচ্চ কক্ষ পরিচালনা পরিষদ
খ. নিম্ন কক্ষ পরিচালনা পরিষদ
ক. উচ্চ কক্ষ পরিচালনা পরিষদ এর সংজ্ঞা, কাজ ও পরিধি:
উচ্চ পরিচালনা পরিষদ গঠিত হবে অনুর্ধ ১০ সদস্য দিয়ে। যারা যাইতুন বিজনেস ফোরাম (ZBF)এর সংবিধান, নীতি-আদর্শ মেনে সক্রিয়ভাবে কাজ করতে আগ্রহী তাদের মধ্য থেকে উচ্চ শিক্ষিত (মাস্টার্স, পিএইচডিধারী) অধিকতর যোগ্য, মেধাবী, সৎ ও আমানতদার ব্যক্তিরা উচ্চ কক্ষ পরিচালনা পরিষদের সদস্য হবেন। উচ্চ কক্ষ পরিচালনা পরিষদের সদস্যদের নূন্যতম শেয়ার সংখ্যা হবে ১০ টি। যাইতুন বিজনেস ফোরাম (ZBF)এর যে কোনো ব্যবসায়ী উদ্যোগ, কার্যক্রম, বিল পাশ, চেক ছাড়, অর্থ প্রদান ইত্যাদি চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত হতে হবে উচ্চ কক্ষ পরিষদ কর্তৃক। উচ্চ কক্ষ পরিচালনা পরিষদ গণতান্ত্রিক উপায়ে প্রতি ৩ বছরের জন্য গঠিত হবে। তবে কোনো কারণে নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হলে অতিরিক্ত ৬ মাস এই পরিষদ দায়িত্ব পালন করতে পারবে এবং উক্ত ৬ মাসের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।
ক্রম | পদবী | সংখ্যা |
---|---|---|
০১ | চেয়ারম্যান বা সভাপতি | ০১ |
০২ | ভাইস চেয়ারম্যান বা সহ-সভাপতি | ০২ |
০৩ | ট্রেজারার বা অর্থ সচিব | ০১ |
০৪ | সেক্রেটারি বা মহা সচিব | ০১ |
০৫ | সদস্য | ০৩ |
০৬ | নিম্ন কক্ষ পরিচালানা পরিষদ কর্তৃক মনোনীত সদস্য | ০২ |
মোট | ১০ |
উচ্চ কক্ষ পরিচালনা পরিষদ নির্বাচন ও কর্ম পরিধি:
প্রথমবার সিলেকশন পদ্ধতিতে যাইতুন বিজনেস ফোরাম (ZBF)এর উচ্চ কক্ষ পরিষদ কমিটি গঠিত হবে। উচ্চ কক্ষ পরিষদ হবে স্থায়ী। ৩ বছর অন্তর এই পরিষদের নির্বাচন হবে শুধুমাত্র নিজেদের দায়িত্বগুলো পুনঃবন্টনের জন্য। উচ্চ কক্ষ পরিষদের সিদ্ধান্তের আলোকে যাইতুন বিজনেস ফোরাম (ZBF)এর সকল কার্যক্রম পরিচালিত হবে। উচ্চ কক্ষ পরিষদের সদস্যগণ প্রতি ৩ বছর অন্তর উচ্চ কক্ষ পরিষদ নির্বাচনের আয়োজন করে উচ্চ কক্ষ পরিষদ পুনঃগঠন করবেন।
চেয়ারম্যানের দায়িত্ব:
চেয়ারম্যান হবেন যাইতুন বিজনেস ফোরাম (ZBF)এর প্রধান পরিচালক। তিনি উচ্চ কক্ষ পরিচালনা পরিষদের সকল সদস্য এবং নিম্ন পরিচালনা পরিষদ কর্তৃক মনোনীত ০২ জন সদস্যকে নিয়ে যাইতুন বিজনেস ফোরাম (তইঋ)’র সকল কার্যক্রম পরিচালনা করতে নেতৃত্ব প্রদান করবেন। চেয়ারম্যানকে সরাসরি সহযোগিতা করবেন উচ্চ কক্ষ পরিচালনা পরিষদের সেক্রেটারি। চেয়ারম্যান সেক্রেটারির সাথে সবসময় যোগাযোগ, আলাপ-আলোচনা করে তার কর্ম পদ্ধতি ঠিক করে কাজ করবেন।
ভাইস-চেয়ারম্যানের দায়িত্ব:
ভাইস চেয়ারম্যাদের কাজ হচ্ছে, উচ্চ পরিচালনা কক্ষ পর্ষদ কর্তৃক অর্পিত দায়িত্ব ঠিকমতো পালন করা। ভাইস-চেয়ারম্যানগণ চেয়ারম্যানকে বিভিন্ন ধরনের উপদেশ দিবেন। নিয়মিত মিটিংয়ে উপস্থিত থেকে কার্যকরী ভুমিকা পালন করে যাইতুন বিজনেস ফোরাম (ZBF)কে সামনের দিকে এগিয়ে নিবেন। চেয়ারম্যান ও সেক্রেটারি দ্বন্ধ করলে কিংবা তারা অকার্যকর হয়ে গেলে কিংবা তারা মৃত্যুবরণ করলে যাইতুন বিজনেস ফোরাম (ZBF)যাতে সাবলীলভাবে পরিচালিত হয় সংবিধানের আলোকে সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন ভাইস-চেয়ারম্যানবৃন্দ।
সেক্রেটারির দায়িত্ব:
চেয়ারম্যানের পর যাইতুন বিজনেস ফোরাম (তইঋ)’র দ্বিতীয় কর্তা ব্যক্তি হলেন সেক্রেটারি। তিনি সব সময় চেয়ারম্যানের সাথে আলোচনা করে কাজ করবেন। ফোরামের সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়ন করবেন সেক্রেটারি। মিটিং আহবান করা, মিটিং লিপিবদ্ধ করা, নোটিশ করা ইত্যাদি কাজ সেক্রেটারি নিয়মিত করবেন। তিনি কোম্পানির মুখপত্র হিসেবেও কাজ করবেন।
ট্রেজারের দায়িত্ব:
ট্রেজারের কাজ হচ্ছে আর্থিক কর্ম-কান্ড পরিচালনা করা। ব্যাংকে টাকা রাখা, উত্তোলন করা, কাউকে পেমেন্ট করা, ক্রয়-বিক্রয় করা ইত্যাদি কাজ চেয়ারম্যান ও সেক্রেটারির সাথে আলোচনা করে তিনি করবেন। তিনি নিজ উদ্যোগে চেয়ারম্যান ও সেক্রেটারিকে না জানিয়ে কোনো আর্থিক লেন দেন করতে পারবেন না। বাৎসরিক বাজেট প্রস্তুত, কর্তকর্তা-কর্মচারীদের বেতন, পে স্কেল ইত্যাদি ট্রেজারার প্রণয়ন করে উচ্চ কক্ষ পরিচালনা পর্ষদে পাশ করিয়ে নিবেন। ট্রেজারার অন্যান্য অফিসিয়াল কাজও নিয়মিত করবেন।
সাধারণ সদস্য:
উচ্চ কক্ষ পরিচালনা পরিষদ সদস্য বলতে যে সমস্ত ব্যক্তিকে উচ্চ কক্ষ পরিচালনা পরিষদ নির্বাচিত করবেন। তাদের প্রধান কাজ হচ্ছে, উচ্চ কক্ষ পরিচালনা পরিষদের সকল মিটিং, সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন ও কার্যক্রমে সক্রিয় ভুমিকা পালন করা।
নিম্ম পরিষদের প্রতিনিধি সদস্য:
নিম্ন কক্ষ পরিচালনা পরিষদ কর্তৃক মনোনীত ০২ জন সদস্যও উচ্চ পরিচালনা কক্ষ পরিষদের সাধারণ সদস্যদের সমান মর্যাদার হবেন। তারাও উচ্চ কক্ষ পরিষদে সক্রিয় ভুমিকা পালন করবেন।
খ. নিম্ন কক্ষ পরিচালনা পরিষদ এর সংজ্ঞা, কাজ ও পরিধি:
উচ্চ কক্ষ পরিচালনা পরিষদের বাইরে যে সমস্ত শেয়ার হোল্ডার থাকবেন তারা সকলেই হবেন যাইতুন বিজনেস ফোরাম (ZBF)এর নিম্ন কক্ষ পরিচালনা পরিষদের সদস্য। নিম্ন কক্ষ পরিচালনা পরিষদের সদস্যরা নূন্যতম ০১ শেয়ার হতে যেকোনো সংখ্যক শেয়ার কিনে যাইতুন বিজনেস ফোরাম (ZBF)এর সদস্য হবেন। নিম্ন কক্ষ পরিষদের কাজ হচ্ছে, সংবিধানের আলোকে উচ্চ পরিষদের যেকোনো সিদ্ধান্তকে আন্তরিকভাবে মেনে নিয়ে কাজ করা। এই পরিষদের সদস্য পদ পেতে কোনো নির্বাচনের প্রয়োজন নেই। সংবিধানে উল্লেখিত সকল ধারা মেনে নিয়ে নির্দিষ্ট ফরম পূরণ করে নির্দিষ্ট শেয়ারের মূল্য প্রদান করেই সদস্য হতে পারবেন। এই পরিষদ প্রত্যেক বছর ০২ জন প্রতিনিধি সদস্য উচ্চ কক্ষ পরিষদে প্রতিনিধিত্ব করার জন্য মনোনীত করবেন। এই ০২ জন সদস্য নিম্ন কক্ষ পরিষদের ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হবেন। নিম্ন পরিষদের যেকোনো মূল্যবান মতামত এই ০২ জন সদস্য বিধিবদ্ধভাবে উচ্চ কক্ষ পরিষদে পেশ করতে পারবেন।
০৮. অর্থনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালনা পদ্ধতি:
যাইতুন বিজনেস ফোরাম (ZBF)এর সকল অর্থনৈতিক কর্ম-কান্ড বাংলাদেশের যেকোনো অঞ্চলের যেকোনো ব্যাংক একাউন্টের মাধ্যমে পরিচালনা করা যাবে। কোম্পানির নামে এক বা একাধিক ব্যাংক একাউন্ট খোলা যাবে। ট্রেজারারসহ মোট ৩ জন প্রতিটি ব্যাংক একাউন্ট পরিচালনা করবেন। চেয়ারম্যানসহ মোট দুজনের স্বাক্ষরে ব্যাংকের লেনদেন সম্পন্ন হবে। উল্লেখ্য যে, যে কোনো লেনদেন উচ্চ কক্ষ পরিষদ কর্তৃক অনুমোদিত হতে হবে।
০৯. যাইতুন বিজনেস ফোরাম (ZBF)এর ব্যবসা পরিচালনা পদ্ধতি:
যাইতুন বিজনেস ফোরাম (ZBF)এর ব্যবসা পরিচালনা হবে উচ্চ কক্ষ পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুসারে বাংলাদেশের আইন মোতাবেক যে কোনো ব্যবসায়িক উদ্যোগের মাধ্যমে। অবশ্যই এই উদ্যোগ হতে হবে ইসলামী শরীয়াহ মোতাবেক লাভ-লসের ভিত্তিতে। কোনো ধরনের সুদ বা ইসলামী শরীয়তে হারাম কোনো কিছুতে যাইতুন বিজনেস ফোরাম (ZBF) বিনিয়োগ করবে না। যে কোনো ব্যবসায়িক উদ্যোগ গ্রহণের আগে উচ্চ কক্ষ পরিচালনা পরিষদে সেই উদ্যোগের লাভ-ক্ষতি খতিয়ে দেখে যথাযথভাবে বিশদ পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। যাইতুন বিজনেস ফোরাম (ZBF)বিধি বহির্ভূত কোনো অবৈধ ব্যবসা বানিজ্যে বিনেয়াগ করবে না। যে বিনোয়াগ অধিক ব্যবসা, সামাজিক ও দেশ বান্ধব সেই সকল ব্যবসায় বিনিয়োগ করবে যাইতুন বিজনেস ফোরাম (ZBF)।
১০. শিক্ষা ও সামাজিক কাজে অংশগ্রহণ:
যাইতুন বিজনেস ফোরাম (ZBF)সবসময় শিক্ষা ও সামাজিক খাতে ব্যবসায়িক বিনিয়োগের পাশাপাশি ফি সাবিলিল্লাহ বা পরকালীন সওয়াবের আশায় কিছু বিনোয়োগ করবে। প্রতি বছর যাইতুন বিজনেস ফোরাম (ZBF)তার লভ্যাংশের শতকরা ২০ ভাগ শিক্ষা, সামাজিক উন্নয়নের জন্য ব্যবহার করবে। প্রতি বছর লভ্যাংশ হিসাবের পর ২০ ভাগ লভ্যাংশ যাইতুন একাডেমিকে প্রদান করা হবে। যাইতুন একাডেমি কর্তৃপক্ষ যাইতুন বিজনেস ফোরাম (ZBF)থেকে প্রাপ্ত অর্থ যাইতুন একাডেমির শিক্ষার্থীদের স্কলারশিপ, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-স্টাফদের সহায়তা, একাডেমির অবকাঠামোগত উন্নয়ন, গরীব ও ইয়াতিম ছাত্র-ছাত্রীদের টিউশন ফি প্রদান, করজে হাসানাহ, বিবাহ সহায়তা, দেন মোহর প্রদান ইত্যাদি খাতে ব্যবহার করতে পারবে।
১১. বেতন ভাতা:
যাইতুন বিজনেস ফোরাম (ZBF)এর উচ্চ কক্ষ পরিচালনা পরিষদের যে সকল সদস্য সরাসরি ফোরামের জন্য নূনতম ০২ ঘন্টা করে কাজ করবেন তাদের জন্য উচ্চ কক্ষ পরিচালনা পরিষদ পে স্কেল নির্ধারণ করে পাশ করিয়ে নিবেন। যারা সরাসরি শ্রম দিবেন না তাদের জন্য শুধুমাত্র বাৎসরিক লাভ-লসের অংশ থাকবে।
১২. উচ্চ কক্ষ পরিচালনা পরিষদের মিটিং:
যাইতুন বিজনেস ফোরাম (ZBF)এর সেক্রেটারি চেয়ারম্যানের সাথে আলোচনা করে মিটিং আহবান করবেন। তিনি মিটিংয়ের এজেন্ডা প্রস্তুত এবং মিটিং মিনিটস/রেজিলুশন রেজিস্ট্রার বইতে লিপিবদ্ধ করে উপস্থিত সকল সদস্যের স্বাক্ষর গ্রহণ করবেন। মিটিং মিনিটস কম্পিউটার কম্পোজ করে প্রিন্ট করে তাতেও স্বাক্ষর নেয়া যাবে। প্রতিটি মিটিংয়ের কোরাম ৩ ভাগের ২ ভাগ সদস্যদের উপস্থিতিতে পূর্ণ হতে হবে। অনুপস্থিত সদস্যরা কোনো ধরনের সম্মানি পাবেন না। মিটিংয়ের কমপক্ষে ৪৮ ঘন্টা আগে নোটিশ প্রদান করতে হবে। জরুরি মিটিং আহবান ১২-২৪ ঘন্টা আগে করতে হবে। প্রতি দুই মাসে অন্তত ০১ টি মিটিং করতে হবে।
১৩. মিটিং এলাউন্স:
উচ্চ পরিচালনা পিরিষদের মিটিংয়ে অংশগ্রহণকারী সদস্য/দাওয়াতপ্রাপ্ত অন্য কোনো সদস্যকে মিটিং এলাউন্স নিম্নোক্ত হারে প্রদান করা হবে:
ক. চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, সেক্রেটারি, ট্রেজারার এর মিটিং সম্মানি ১০০০ টাকা।
খ. অন্য সদস্যদের মিটিং সম্মানি ৭০০ টাকা।
তবে মিটিং এলাউন্স কার্যকর করতে উচ্চ পরিষদের অনুমোদন লাগবে। উচ্চ পরিষদ যখন ভালো মনে করবে তখন থেকে মিটিং এলাউন্স ঘোষণা করবেন। উচ্চ পরিষদ মিটিং এলাউন্সের পরিমাণ কম বৃদ্ধি করতে পারবেন।
১৪. যাইতুন বিজনেস ফোরাম (ZBF)থেকে অব্যাহতি:
ক. উচ্চ কক্ষ পরিচালনা পর্ষদের কেউ যদি কোনো ধরনের আর্থিক দূর্নীতি কিংবা এমন কোনো কাজ করেন যা যাইতুন বিজনেস ফোরাম (ZBF)এর সরাসরি সুনামের ক্ষতি করে তাহলে উচ্চ কক্ষ পরিচালনা পর্ষদের অন্য যেকোনো ৩ সদস্য নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করে তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের সুস্থ তদন্ত করতে হবে। তদন্তে যদি অভিযুক্ত ব্যক্তি দোষী সাব্যস্ত হন তাহলে তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ প্রদান করে ব্যাখ্যা চাওয়া হবে। তার ব্যাখ্যা তদন্ত কমিটির কাছে সন্তোষজনক ও গ্রহণযোগ্য না হলে তার বিরুদ্ধে কমিটি কর্তৃক সুপারিশ অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ/ অব্যাহতি প্রদান করা হবে।
খ. কেউ ব্যক্তিগত কারণে যাইতুন বিজনেস ফোরাম (ZBF)থেকে অব্যাহতি চাইলে সভাপতি বরাবর লিখিত আবেদন করবেন। সভাপতি লিখিত আবেদন উচ্চ পরিচালনা পর্ষদের মিটিংয়ে উপস্থাপন করবেন। এরপর উচ্চ পরিচালনা পর্ষদ আলোচনা করে ঐ সদস্যের সদস্য পদ থেকে অব্যাহতির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দিবেন।
গ. সদস্য পদ বাতিলের সময় উচ্চ পরিচালনা পরিষদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক লাভ-ক্ষতি হিসাব করে তার শেয়ারও লাভ-ক্ষতিসহ বুঝিয়ে দেয়া হবে।
১৫. বাৎসরিক সাধারণ সভা (এজিএম):
যাইতুন বিজনেস ফোরাম (ZBF)এর বাৎসরিক সাধারণ সভা বা এজিএম অনুষ্ঠিত হবে। এজিএমে উচ্চ ও নিম্ন পরিষদের সকল সদস্য দাওয়াতপ্রাপ্ত হবেন। এজিএমে অংশগ্রহণকারী সকল সদস্যকে গিফট হ্যাম্পার, আপ্যায়ন, টিএ-ডিএ ইত্যাদি উচ্চ পরিষদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক প্রদান করা হবে। এজিএমে যাইতুন বিজনেস ফোরাম (তইঋ)’র বাৎসরিক আয়-ব্যয় ও লাভ-লসের ফিরিস্তি তুলে ধরা হবে। নতুন কোনো প্রজেক্ট সম্পর্কে মতামতসহ বিভিন্ন বিষয় এজিএমে আলোচনা করা হবে।
১৬. শেয়ার মূল্য:
যাইতুন বিজনেস ফোরাম (ZBF)এর প্রতিটি শেয়ারের মূল্য হবে ০১ লাখ টাকা। একজন সদস্য এক থেকে একাধিক শেয়ার কিনতে পারবেন। উল্লেখ্য যে, ২০২৬ সালের পহেলা জানুয়ারি থেকে শেয়ার মূল্য তৎসময়ের লভ্যাংশ বিবেচনা করে নির্ধারণ করা হবে।
১৭. ইছলাহ পরিষদ:
যাইতুন বিজনেস ফোরাম (ZBF)এর উচ্চ পরিচালনা পরিষদে যদি কোনো ধরনের জটিল সমস্যা দেখা যায়; যার কারণে ফোরামের সুনাম নষ্ট কিংবা ব্যবসায়িক ব্যাপক ক্ষতি দেখা দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয় তাহলে ইছলাহ পরিষদ অতি দ্রুত উচ্চ পরিষদকে শুদ্ধ করার উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারবে। নতুন উচ্চ পরিষদ গঠনের প্রয়োজন দেখা দিলে ইছলাহ পরিষদ নিম্ন পরিচালনা পরিষদ থেকেও সদস্য নিয়ে উচ্চ পরিচালনা পরিষদকে পুনঃগঠন করতে পারবেন। ইছলাহ পরিষদের সদস্য সংখ্যা হবে ০৩ জন। এই ০৩ জনকে মনোনয়ন দিবে উচ্চ কক্ষ পরিচালনা পরিষদ।
১৮. উপদেষ্টা পরিষদ:
যাইতুন বিজনেস ফোরাম (ZBF)যেহেতু প্রফেশনাল বিজনেস ফোরাম সেহেতু এর সমৃদ্ধির জন্য ব্যবসা জগতের অভিজ্ঞদের নিয়ে উপদেষ্টা পরিষদ গঠিত হবে। দেশ-বিদেশের অভিজ্ঞ যে কোনো ব্যক্তিকে এই পরিষদের সদস্য বানানো যাবে। উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সংখ্যা ০৫ থেকে ১০ জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে। উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করবে উচ্চ কক্ষ পরিচালনা পরিষদ।
১৯. যাইতুন বিজনেস ফোরাম (ZBF)এ চাকুরি:
যাইতুন বিজনেস ফোরাম (ZBF)পরিচালিত যে কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকুরি করতে পারবেন বাংলাদেশের যে কোনো যোগ্য ও দক্ষ নাগরিক। তবে উল্লেখ্য যে, যাইতুন একাডেমির সাবেক শিক্ষার্থীরা যাইতুন বিজনেস ফোরাম (ZBF)এ চাকুরি প্রাপ্তির ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবেন। চাকুরির বিধি মোতাবেক বেতন-ভাতা, সুযোগ-সুবিধা, চাকুরিচ্যুতি ইত্যাদি পরিচালিত হবে। চাকুরি বিধিমালার বাইরে আলাদা কোনো সুযোগ-সুবিধা কেউ পাবেন না।
২০. লভ্যাংশ বন্টন নীতিমালা:
যাইতুন বিজনেস ফোরাম (ZBF)বাৎসরিক লভ্যাংশ ঘোষণা করবে। বাৎসরিক সাধারণ মিটিং (এজিএম)এ এই লভ্যাংশ ঘোষণা করা হবে। বাৎসরিক সকল ব্যয় মিটানোর পর যে পরিমাণ অর্থ অতিরিক্ত থাকবে সেই অর্থের ৮০ ভাগ লভ্যাংশ ঘোষণা করা হবে। এই ৮০ ভাগ লভ্যাংশ যত সংখ্যক শেয়ার থাকবে ততভাগে ভাগ করে বন্টন করা হবে। বাকি ২০ ভাগ অর্থ যাইতুন একাডেমিকে প্রদান করা হবে। সংবিধানের ১০ম ধারা মোতাবেক যাইতুন একাডেমি কর্তৃপক্ষ শিক্ষা ও সামাজিক খাতে উক্ত অর্থ খরচ করতে পারবে।
২১. যাইতুন বিজনেস ফোরাম (ZBF)এর শেয়ার হোল্ডার হওয়ার পদ্ধতি:
যাইতুন বিজনেস ফোরাম (ZBF)এর শেয়ার হোল্ডার বা সদস্য হওয়ার শর্তাবলী নিম্নরুপ:
ক. যাইতুন একাডেমির সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী হতে হবে।
খ. যাইতুন একাডেমির অভিভাবকবৃন্দও যাইতুন বিজনেস ফোরাম (তইঋ)’র শেয়ার হোল্ডার হতে পারবেন।
গ. যাইতুন একাডেমি ম্যানেজমেন্ট, একাডেমিক কমিটি, গভর্নিং বডি, শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও যাইতুন বিজনেস ফোরাম (তইঋ)’র শেয়ার হোল্ডার হতে পারবেন।
ঘ. ফরম পূরণের সময় জন্ম নিবন্ধন সনদ/এনআইডি, যাইতুন একাডেমিতে লেখাপড়ার আইডি কার্ড/পাশের সনদ এবং পাসপোর্ট সাইজের ছবি আপলোড দিতে হবে।
ঙ. ওয়েবসাইটে যথাযথ প্রক্রিয়ায় যারা যাইতুন বিজনেস ফোরাম (তইঋ)’র সদস্য হবেন কেবল তারাই অনলাইনে নিজ ওয়েব প্যানেলের মাধ্যমে যাইতুন বিজনেস ফোরাম (ZBF)এর শেয়ার হোল্ডার হতে পারবেন।
২২. যাইতুন বিজনেস ফোরাম (ZBF)এর লাভ-ক্ষতি পর্যবেক্ষণ:
যাইতুন বিজনেস ফোরাম (ZBF)এর প্রতিটি সদস্য ওয়েবসাইটে লগইন আইডি ও পাসওয়ার্ড দিয়ে নিজ ওয়েব প্যানেলে প্রবেশ করতে পারবেন। সেখানে যাইতুন বিজনেস ফোরাম (ZBF)এর যাবতীয় তথ্য ও কার্যক্রম নিজেই দেখতে পাবেন। শেয়ার হোল্ডারদের লেনদেনের হিসাব, স্লিপ, লাভ-ক্ষতি, স্থিতি, মূলধন, বিভিন্ন প্রজেক্ট ইত্যাদি সবকিছু নিজে নিজেই দেখতে পাবেন। এছাড়া বাৎসরিক সাধারণ মিটিংয়ের রিপোর্ট ও প্রসেডিংস ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।
২৩. যাইতুন বিজনেস ফোরাম (ZBF)এর বিনিয়োগের প্রস্তাবিত খাতসমূহ:
যাইতুন বিজনেস ফোরাম মূলতঃ ৩টি খাতে বিনিয়োগ করবে:
১. শিক্ষা: স্কুল, কলেজ, মাদরাসা, বিশ্ববিদ্যালয়।
২. স্বাস্থ্য: নার্সিং কলেজ, মেডিকেল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, মেডিকেল কলেজ।
৩. সেবা: বিভিন্ন ধরনের সেবাজাতীয় খাত।
২৪. ২০২৫ সালের মূলধন ও বিনোয়োগ প্ল্যান:
যাইতুন বিজনেস ফোরাম (ZBF)২০২৫ সালের মধ্যে ০১ হাজার শেয়ার বিক্রি করে মোট ১০০ কোটি টাকার মূলধন কালেকশন করার প্ল্যান করেছে। ২০২৫ সালের মধ্যে ঢাকা ও চট্টগ্রামে কয়েক একর জমি ক্রয় এবং আকর্ষণীয় খাতে অর্থ বিনোয়োগের প্ল্যান রয়েছে।
২৪. নির্বাচন কমিশন:
৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি নির্বাচন কমিশন গঠিত হবে। নির্বাচন কমিশনের প্রধান হবেন উচ্চ কক্ষ পরিচালনা পরিষদের চেয়ারম্যান। তিনি উচ্চ কক্ষ পরিচালনা ও নিম্ন কক্ষ পরিচালনা পরিষদ থেকে যেকোনো ২ জন সদস্য মনোনীত করে নির্বাচন কমিশন গঠন করবেন। নির্বাচন কমিশনের কাজ হচ্ছে, সময়মতো উচ্চ কক্ষ পরিষদ ও নিম্ন কক্ষ পরিষদের নির্বাচনের আয়োজন করা।
২৫. শেয়ার হোল্ডারদের সাধারণ বেনিফিট (সুবিধাদি):
যাইতুন বিজনেস ফোরাম (ZBF)এর সকল ডিরেক্টরগণ লভ্যাংশ পাওয়ার ক্ষেত্রে সমান মর্যাদা পাবেন।
শেয়ারের সংখ্যা অনুসারে প্রত্যেক শেয়ার হোল্ডার তার প্রাপ্য সুবিধা ভোগ করবেন।
বাৎসরিক এজিএমে সকলের উপস্থিতিতে শেয়ারের লভ্যাংশ ঘোষণা করা হবে।
প্রথম ৩ বছর কাউকে লভ্যাংশ প্রদান করা হবে না। চতুর্থ বছর থেকে লভ্যাংশ বন্টন হবে।
৫ম বছর থেকে শেয়ার হোল্ডারগণ বিপদে আপদে কর্জে হাসানা সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন।
যেকোনো সময় শেয়ার হোল্ডারগণ তাদের শেয়ার প্রত্যাহার করতে পারবেন। তবে ৩ বছরের আগে কেউ ডিরেক্টরশিপ বাতিল করলে তাকে শুধুমাত্র তার পক্ষ থেকে বিনিয়োগকৃত নির্ধারিত অর্থ ফেরত দেয়া হবে। ৪র্থ বছর থেকে লভ্যাংশসহ শেয়ারমূল্য ফেরত দেয়া হবে।
শেয়ার হোল্ডারগণ, তাদের ছেলে-মেয়ে এবং পিতা-মাতাগণ যাইতুন বিজনেস ফোরাম (ZBF)এর পক্ষ থেকে একটি বিশেষ কার্ড পাবেন। এই কার্ড ব্যবহার করে তারা তইঋ পরিচালিত যেকোনো প্রতিষ্ঠান থেকে বিশেষ ডিসকাউন্ট, সেবা ইত্যাদি পাবেন।
শেয়ার হোল্ডারগণ ওয়েবসাইটের নিজস্ব লগইন প্যানেল থেকে তইঋ পরিচালিত প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম, আর্থিক হিসাব, লাভ-ক্ষতি ইত্যাদির আপডেট পাবেন।